ভূমিকা

A Sombra das Costas Zhu Ziqing. 3179শব্দ 2026-08-03 23:42:00

হু শিজি মহাশয় ১৯২২ সালের মার্চ মাসে ‘‘পঞ্চাশ বছরে চীনা সাহিত্য’’ শীর্ষক একটি প্রবন্ধ রচনা করেছিলেন; যার শেষে তিনি আধুনিক কথ্য ভাষায় সাহিত্যের অগ্রগতি নিয়ে মতামত প্রকাশ করেন। তৃতীয় দফায় তিনি বলেন:

কথ্য ভাষার গদ্য সাহিত্যে বেশ অগ্রগতি হয়েছে। দীর্ঘ প্রবন্ধের ক্ষেত্রে এই অগ্রগতি সুস্পষ্ট, এতে আর বিশেষ কিছু বলার নেই। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গদ্য সাহিত্যের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিকাশ হলো, ঝোউ জুয়েরেন প্রমুখের উদ্যোগে ‘‘ক্ষুদ্র প্রবন্ধ’’—এর প্রসার। এ ধরনের ছোট প্রবন্ধ সহজ-সরল কথোপকথনের ভঙ্গিতে গভীর অর্থ বহন করে; কখনো কখনো দেখতে সাদাসিধে, কিন্তু আসলে তাতে সূক্ষ্ম কৌতুক রয়েছে। এই ধরনের রচনার সাফল্যে ‘‘সুন্দরের জন্য কথ্য ভাষা নয়, কেবল শুদ্ধ সাহিত্যের ভাষা দরকার’’—এ ধারণা একেবারে চূর্ণ হয়েছে।

হু মহাশয় মোট চারটি দিক উল্লেখ করেছিলেন। প্রথমত, কথ্য ভাষার কবিতা, যা তিনি বলেন, ‘‘সফলতার পথে উঠেছে’’; দ্বিতীয়ত, ছোটগল্প, যা ‘‘ক্রমে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে’’; চতুর্থত, নাটক ও উপন্যাস, যা ‘‘সবচেয়ে দুর্বল’’। তিনি কোথাও উল্লেখ করেননি কোনটি সর্বোত্তম; কিন্তু তার ভাষা থেকে বোঝা যায়, ক্ষুদ্র প্রবন্ধ অন্তত কবিতা ও ছোটগল্পের চেয়ে খারাপ নয়। এখন ছয় বছর কেটে গেছে, পরিস্থিতি অনেক বদলেছে: কবিতার কিছুটা অগ্রগতি হয়েছে, বিশেষত পাশ্চাত্য ছন্দের অনুসরণে, কিন্তু অগ্রগতি খুবই ধীর; সাহিত্য মহলে একে ঘিরে আগের মতো উচ্ছ্বাস নেই। হু মহাশয় তখন ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন—‘‘আগামী দশ বছরে চীনা কাব্য জগতে উজ্জ্বল প্রকাশ ঘটবে’’; কিন্তু আজ দেখে মনে হয়, সে বিষয়ে কোনো নিশ্চয়তা নেই। ছোটগল্প আগের চেয়ে ভালো, উপন্যাস প্রায় অপরিবর্তিত। নাট্য শিল্পের ক্ষেত্রে কিছু ইতিবাচক সাফল্য এসেছে, যা আনন্দের। সবচেয়ে বিকশিত হয়েছে ক্ষুদ্র গদ্য। গত তিন-চার বছরে নানা সাহিত্যপত্রে, সচেতন বা অবচেতনভাবে, বিপুল পরিমাণ গদ্য প্রকাশিত হয়েছে; সাম্প্রতিক এক বছরে এমন পত্রিকার সংখ্যা আরও বেড়েছে। বইয়ের দোকানগুলোতেও নানা গদ্য সংকলন বের হচ্ছে। ‘‘প্রাচ্য পত্রিকা’’-তে ২২তম খণ্ড (১৯২৫) থেকে ‘‘নতুন ভাষার বাগান’’ নামে বিশেষ বিভাগ সংযোজিত হয়েছে, যেখানে বহু ছোট গদ্য প্রকাশিত হয়েছে। শা ম্যানজুন ও লিউ শুনইউ সম্পাদিত ‘‘প্রবন্ধ রচনার পদ্ধতি’’ গ্রন্থে ঘটনাবলি, বিবরণ, ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ ছাড়াও ছোট প্রবন্ধের জন্য আলাদা অধ্যায় রাখা হয়েছে। গত বছর ‘‘উপন্যাস মাসিক’’-এর ‘‘সৃষ্টিশীল সংখ্যা’’ (সপ্তম সংখ্যা) তেও ছোট প্রবন্ধের জন্য বিশেষ বিভাগ ছিল। এভাবে ক্ষুদ্র গদ্য এক বিশেষ জনপ্রিয়তায় পৌঁছেছে। ‘‘পূর্ব এশীয় অসুস্থ ব্যক্তি’’ চলতি বছরের মার্চ মাসে ‘‘হু শিজিকে লেখা চিঠি’’ (‘‘সত্য সৌন্দর্য ও মঙ্গল’’ প্রথম খণ্ড, দ্বাদশ সংখ্যা) প্রবন্ধে, সাম্প্রতিক বছরগুলোর সাহিত্য সাফল্য নিয়ে লেখেন: ‘‘প্রথমত ক্ষুদ্র গদ্য, যেখানে ব্যঙ্গ, মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ ও প্রকৃতির চিত্রায়ণে অল্প কথায় গভীরতা ফুটে ওঠে; দ্বিতীয়ত ছোটগল্প; ... তৃতীয়ত কবিতা...’’ এই পর্যবেক্ষণ মোটের উপর যথার্থ। তবে তিনি ‘‘আলস্য’’ ও ‘‘দ্রুততার ইচ্ছা’’-কে ক্ষুদ্র গদ্য ও ছোটগল্প বিকাশের কারণ হিসেবে দেখিয়েছেন, যা যথেষ্ট নয়। আপাতত ছোটগল্পের আলোচনা বাদ দিয়ে ক্ষুদ্র গদ্য নিয়ে বলি: কথিত ‘‘আলস্য’’ ও ‘‘দ্রুততার ইচ্ছা’’ কেবল এর স্বভাবগত কারণের একপাশ; এর ঐতিহাসিক কারণ আরও গুরুত্বপূর্ণ।

আমরা জানি, চীনা সাহিত্য বরাবরই গদ্যকে মুখ্য মনে করেছে; গদ্যের বিকাশ প্রকৃতপক্ষে স্বাভাবিকই। ক্ষুদ্র গদ্যরূপ এই কাঠামো, প্রাচীন গদ্য সাহিত্যে সর্বত্র ছিল; কেবল আত্মা ও প্রকাশভঙ্গি আলাদা ছিল মাত্র। উদাহরণস্বরূপ, ইয়াও নাইয়ের তেরো শ্রেণিকে মানলে, যেমন ভূমিকা, চিঠিপত্র, উপহার স্বরূপ লেখা, জীবনী, স্মৃতিস্তম্ভ, বিবিধ স্মৃতি, শোকগাথা—এ সব বিভাগেই অসংখ্য ক্ষুদ্র রচনা আছে; চেন তিয়ানডিং সম্পাদিত ‘‘অতীত ও বর্তমানের ক্ষুদ্র রচনা’’ সংকলনে এমনকি রাজকীয় ফরমান ও নীতিকথাও অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, যা হয়তো অতিরিক্ত বিস্তৃত। আমি যখন ঐতিহাসিক কারণ বলি, তখন কেবল ঐতিহাসিক পটভূমির কথা বলি, আধুনিক গদ্য সাহিত্যের উৎস বোঝাতে চাই না। হু মহাশয় বলেন, ঝোউ মহাশয় প্রমুখের প্রচারিত ক্ষুদ্র গদ্য ‘‘সুন্দর গদ্য কেবল সাহিত্যিক ভাষায় হতে পারে’’—এই কুসংস্কার ভেঙে দিয়েছে। এই ‘‘কুসংস্কার’’-এর ইতিবাচক দিক, নিঃসন্দেহে ‘‘সুন্দর গদ্য শুধু শুদ্ধ সাহিত্যে’’—এই ধারণা; অর্থাৎ, সুন্দর গদ্য আগে থেকেই ছিল, কেবল ঝোউ মহাশয় প্রমুখ সেটিকে কথ্য ভাষায় রূপান্তরিত করেছেন। ঝোউ মহাশয় নিজে ‘‘বিচিত্র মিশ্রণ’’-এর ভূমিকায় লিখেছেন:

... মিং যুগে সাহিত্য ও শিল্পে তুলনামূলক প্রাণ ছিল, সাহিত্যে নতুনত্বের লক্ষণ ছিল, কুংআন গোষ্ঠী প্রাচীন গদ্যের প্রচলিত ধারা উপেক্ষা করতে পেরেছিল, আবেগের প্রকাশে সর্বপ্রকার রচনা লিখেছিল; যদিও পরবর্তী সমালোচকরা একে হালকা ও ফাঁপা বলে খাটো করেছেন, প্রকৃতপক্ষে তা ছিল স্বতন্ত্র ব্যক্তিত্বের প্রতিফলন, যার মূল্য চিংলিং গোষ্ঠীর চেয়ে বেশি। পূর্বের সাহিত্যিকরা সৃষ্টির ব্যাপারে দ্বৈত দৃষ্টিভঙ্গি রাখতেন, কিন্তু তারা ছিলেন একক মনোভাবের, যা আধুনিক লেখকদের সঙ্গে সাযুজ্যপূর্ণ... পূর্বে লেখার উদ্দেশ্য ছিল ‘‘নৈতিকতা প্রচার’’; তবে পাশাপাশি এমন রচনাও ছিল, যার উদ্দেশ্য নিছক আনন্দ। এখন আবার একে ঐক্যবদ্ধ করা হয়েছে, লেখা বা পড়ার উদ্দেশ্য যতটা আনন্দ, ঠিক ততটাই তাতে নৈতিকতা বা জীবনবোধও প্রকাশ পায়... এটি মিং যুগের নতুন সাহিত্যিকদের সাথেই তুলনীয়, এতে আশ্চর্যের কিছু নেই। যদিও অনুকরণ করা হয়নি, এমনকি খুব কম লোকই মিং যুগের গদ্য পড়েছে; তাছাড়া যুগের পার্থক্যের জন্য ভাষাতেও পাশ্চাত্য প্রভাব, চিন্তায়ও চারশো বছর আগের তুলনায় স্পষ্ট পরিবর্তন এসেছে।

এই অংশটি আধুনিক গদ্য সাহিত্যের ঐতিহাসিক পটভূমি সংক্ষেপে ও স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করেছে। মিং যুগের নামকরা সাহিত্যিকদের রচনা, প্রাচীন গদ্যে, নিঃসন্দেহে আধুনিক গদ্যের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ। কিন্তু আমাদের মনে রাখা উচিত, আধুনিক গদ্য সাহিত্যে সরাসরি সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলেছে বিদেশি সাহিত্য; এ কথা ঝোউ মহাশয় স্পষ্টভাবে বলেননি। আমরা যদি দেখি, ঝোউ মহাশয়ের নিজের রচনা, যেমন ‘‘ঝোউ বর্ণনা সংকলন’’ ইত্যাদি, এর ভাবনা ও প্রকাশভঙ্গি, কি আদৌ মিং যুগের সাহিত্যিকদের রচনায় মেলে?—সর্বোচ্চ ‘‘রুচি’’ কিছুটা সাদৃশ্য থাকতে পারে। বরং বলব, তাঁর ওপর বিদেশি সাহিত্যিক প্রভাব চীনা প্রভাবের চেয়ে বেশি। অন্য লেখকদের ক্ষেত্রেও, বিদেশি প্রভাব কখনও আরও প্রবল, যেমন লু শিউন, শু চিমো মহাশয়। ঐতিহাসিক পটভূমি কেবল প্রবণতা নির্দেশ করে, বিশদ বিষয় নির্ধারণ করেন লেখকেরা নিজে; তাই বিদেশি প্রভাবের কথা বললেও, ঐতিহাসিক পটভূমি মুছে যায় না। কিন্তু যদি প্রশ্ন করা হয়, গদ্যরূপের এমন ঐতিহাসিক সুবিধা সত্ত্বেও, কেন নতুন সাহিত্যের প্রারম্ভে কবিতা, ছোটগল্প ও নাটকই বেশি জনপ্রিয় হলো? আমার ধারণা, সেটি হয়তো এক ধরনের প্রতিক্রিয়া। এই প্রতিক্রিয়া স্বাভাবিকভাবেই ইতিবাচক, কিন্তু ইতিহাসের শক্তি প্রবল; কিছু বছর পর তা ঢিলে হয়ে গিয়ে গদ্য সাহিত্য আবার তার পুরোনো অবস্থানে ফিরে আসে। এই প্রবণতা আদর্শ নয়; কারণ বোঝার জন্য স্বভাবগত কারণের কথাও বলতে হয়।

সাহিত্যের কাঠামো অনুযায়ী মান নির্ধারণের চেষ্টা, যেমন অ্যারিস্টটল তাঁর ‘‘কবিতাশাস্ত্র’’-এ করেছেন, অসীম বিতর্ক ও বিশ্লেষণ নিয়ে আসে; আমি সে ব্যাপারে মন্তব্য করতে সাহস করি না। শুধু অনুভব করি, কাঠামোগত বিভাজন কখনো স্পষ্ট না হলেও, প্রতিটি রূপের নিজস্ব বৈশিষ্ট্য আছে; এবং এই বৈশিষ্ট্যে মূল্যবোধের পার্থক্যও থাকে। আবেগপ্রবণ গদ্য সাহিত্যের তুলনা যদি খাঁটি সাহিত্যিক কবিতা, উপন্যাস, নাটকের সঙ্গে করি, তবে পার্থক্য স্পষ্ট হয়। বলা যায়, গদ্য তুলনামূলক মুক্ত, অন্যরা বেশি শৃঙ্খলাবদ্ধ: কবিতার শব্দ, ছন্দ; উপন্যাসের বর্ণনা, গঠন; নাটকের সংলাপ ও বিন্যাস—সবকিছুতে নানা নিয়ম (ব্যাপক অর্থে, শুধু ক্লাসিক্যাল ধারায় নয়), যা নিখুঁত যত্ন ছাড়া সম্ভব হয় না। গদ্য এখানে ব্যতিক্রম; বিষয় ও প্রকাশে তুলনামূলক স্বাধীন। কথিত ‘‘আলাপচারিতা’’—এটি এক অর্থে গদ্যের প্রকৃত সংজ্ঞা। একে খাঁটি শিল্পকর্ম বলা যায় না, কবিতা, উপন্যাস, নাটকের তুলনায় তার মান কম বেশি। তবে ‘‘আলস্য’’ ও ‘‘দ্রুততার ইচ্ছা’’-সম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য এটি অবশ্যই উপযোগী। এটিই তার বিকাশের আরও একটি কারণ। আমি মনে করি, প্রকৃত সাহিত্যিক অগ্রগতি আসতে হবে খাঁটি সাহিত্যিক ধারায়; কেবল গদ্য সাহিত্য যথেষ্ট নয়। তাই বলি, বর্তমান অবস্থা স্বাস্থ্যকর নয়—আশা করি, এটি কেবল একটি অস্থায়ী রূপান্তরকাল; শীঘ্রই খাঁটি সাহিত্যিক ধারা আবার বিকশিত হবে, অন্তত গদ্য সাহিত্যের সমানতর হবে! তবে কেবল গদ্য সাহিত্য হিসেবে দেখলেও, গত তিন-চার বছরের বিকাশ অত্যন্ত চমৎকার: নানা রূপ, নানা ধারায়, জীবনের নানাদিক নিয়ে প্রকাশ, বিশ্লেষণ, ব্যাখ্যা; প্রবাহিত, বিবর্তিত, প্রতিনিয়ত নতুন; কখনো চীনা রুচি, কখনো বিদেশি; আছেন অন্তর্মুখী, আছেন বিদ্রোহী; চিন্তায় এ রকম বৈচিত্র্য। কখনো বর্ণনামূলক, কখনো ব্যঙ্গাত্মক, কখনো সূক্ষ্ম, কখনো তীক্ষ্ণ, কখনো বলিষ্ঠ, কখনো রঙিন, কখনো সংক্ষিপ্ত, কখনো বহমান, কখনো সংযত—প্রকাশভঙ্গিতেও তেমন বৈচিত্র্য।

আমি এই বৃহৎ যুগের এক ক্ষুদ্র সৈনিক, একেবারে সাধারণ মানুষ। সামর্থ্যের স্বল্পতা বলার অপেক্ষা রাখে না, তাই কখনো ভালো কিছু লিখতে পারিনি। কবিতা লিখেছি, উপন্যাস লিখেছি, গদ্য লিখেছি। পঁচিশ বছর বয়স পর্যন্ত কবিতা লিখতে ভালো লাগত; সাম্প্রতিক বছরগুলিতে কবিতার ভাব枯িয়েছে, কলম থেমে আছে। বছর দুয়েক আগে এক বন্ধু আমার লেখা ‘‘যুদ্ধ’’ পড়ে বলেছিল, আমি আবেগপ্রধান কবিতা লিখতে পারি না, কেবল মহাকাব্য লিখতে পারি; আসলে অর্থ, আমি কবিতা লিখতে পারি না। নিজেও তা কিছুটা মনে করি, তাই আরও আলসে হয়ে পড়েছি। ছোটগল্প মাত্র দুটি লিখেছি। এখন পড়ে দেখি, ‘‘হাসির ইতিহাস’’ শুধুই সাধারণ মানের, উপাদানের ভিড়, যেন এক মোটা দোকানির পেটের মতো; ‘‘বিচ্ছেদ’’-এর শব্দচয়ন ও বাক্যগঠন এত অস্বাভাবিক, যেন পক্ষাঘাতগ্রস্ত, পড়তে খুবই অস্বস্তি হয়। আমার মনে হয়, উপন্যাস লেখা অত্যন্ত কঠিন; বড় নয়, এমনকি ছোটগল্পও—ওই ধরনের সংক্ষিপ্ত, বলিষ্ঠ গঠন আমার জীবনেও শেখা হবে না! জানি না, কীভাবে উপাদান সাজাব, যাতে সেগুলোর স্বাভাবিক স্থান হয়। নাটক তো কখনো লেখার সাহসই হয়নি। আমি সাধারণত গদ্যই লিখি বেশি। খাঁটি সাহিত্যিক নিয়মগুলি পারি না, আবার বলার মতো কথাও থাকে, তাই সহজভাবে যা মনে আসে লিখি; আপনি চাইলে বলুন ‘‘আলস্য’’, কিংবা ‘‘দ্রুততার ইচ্ছা’’—আমি স্বভাবতই এই রূপ গ্রহণ করেছি। এই ছোট বইটিতে, গত চার বছরে লেখা গদ্য সংকলিত হয়েছে। এর মধ্যে দুটি লেখা গল্পের মতো মনে হতে পারে; কিন্তু আপনি সেগুলিকে গদ্য হিসেবেই দেখুন, তাতে সবার উপকার। দুটি ভাগে বিভাজনের কারণ, তাদের ভাষা ও শৈলীতে কিছু পার্থক্য; কেমন পার্থক্য, পড়লেই বোঝা যাবে। এই দুই ধরনের রচনা নিয়ে আমার বন্ধুদের বিপরীত মতামত। ইয়িং ‘‘ভ্রমণ স্মৃতিকথা’’ পড়ে চিঠিতে লিখেছিল, আমি এ ধরনের লেখা খুব পছন্দ করি না, কারণ এতে কারও অনুকরণ আছে; যা গ্রহণযোগ্য নয়। এতে কিছুটা ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে, আমি আদৌ কাউকে অনুকরণ করার কথা ভাবিনি। পরে সে ‘‘পিয়াওলিং’’ পড়ে আবার লিখল, এটা আমার ‘‘পেছনের ছায়া’’-র অন্য দিক, যেটা সে পছন্দ করে। কিন্তু হুয়া তেমন নয়। সে ‘‘চিহ্ন’’ পড়ে বলল, কেবল ‘‘নৌকায় সভ্যতা’’ রচনাটি ভালো লেগেছে; যা ‘‘ভ্রমণ স্মৃতিকথা’’-ধারার। এটি এক মজার তুলনা। আমার নিজের নির্দিষ্ট কোনো মত নেই, কেবল তখন যা মনে হয়েছে, তাই লিখেছি। আমার লক্ষ্য, নিজেকে প্রকাশ করা; সাধ্য মতো চেষ্টা করেছি, বাকিটা পাঠকের বিচার।

ঝু জি ছিং

৩১ জুলাই ১৯২৮, বেইপিং, ছিংহুয়া উদ্যান।