কিভাবে সম্পূর্ণ অধিকার কিনে নেওয়া যায় (হস্তান্তর করা যায়)
অনেক বার বিভিন্ন মন্তব্যে আমি বলেছি, "শুরুটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ"। তবে এখানে শুরুর অর্থ প্রথম অধ্যায়ের কাহিনি বা গঠন নয়, বরং প্রথম দশ হাজার শব্দ কীভাবে লেখা হয়, সেটাই মূল কথা। কারণ সম্পাদকদের প্রধান মনোযোগ থাকে এই প্রথম দশ হাজার শব্দেই। কাজেই এই দশ হাজার শব্দের মধ্যেই নিম্নলিখিত বিষয়গুলো অবশ্যই অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে।
প্রথমত: স্বর্ণ-আঙ্গুল
স্বর্ণ-আঙ্গুল বলতে বোঝায় এক ধরনের অলৌকিক সুবিধা বা চিটকোড, যা নায়ককে দ্রুত শক্তিশালী করে তোলে এবং অসংখ্য সংকট পার হতে সাহায্য করে, অবশেষে তাকে বিশ্বের চূড়ায় পৌঁছে দেয়। একটি উপন্যাসকে অনলাইন গেমের জগতের সাথে তুলনা করা যায়। যদি চিটকোড খুব স্পষ্ট হয়, তাহলে অন্য খেলোয়াড়েরাও আগ্রহ হারিয়ে ফেলতে পারে। স্বর্ণ-আঙ্গুলও তেমন, যদি নায়কের কাছে অজেয় কোনো চিটকোড থাকে, তাহলে পুরো কাহিনি কল্পনার ওপর নির্ভর করতে হবে। তাই, উপযুক্ত স্বর্ণ-আঙ্গুল নায়কের শক্তি বৃদ্ধির সেরা সহায়ক। উদাহরণস্বরূপ, একটি অত্যন্ত শক্তিশালী অথচ সিল করা জাদু বস্তু, যা কেবল সংকটকালে সক্রিয় হয় এবং নায়ককে রক্ষা করে। অথবা এক অসাধারণ শিক্ষক, যিনি সবসময় আড়াল থেকে নায়ককে সাহায্য করেন। স্বর্ণ-আঙ্গুলের শক্তি নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই, তবে উপযুক্ত স্বর্ণ-আঙ্গুলই উন্নয়নশীল কাহিনির জন্য অপরিহার্য। সঠিক স্বর্ণ-আঙ্গুল লেখকের জন্য কমপক্ষে পাঁচ শতাংশ চুক্তির সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়, এবং এগারো শতাংশ ভাগের সম্ভাবনাও বৃদ্ধি করে।
দ্বিতীয়ত: ভাষার শৈলী
পাঠকদের রুচি ক্রমশ উন্নত হচ্ছে, তারা আর সাধারণ বা শিশুসুলভ লেখা সহ্য করতে পারে না। কাহিনি যেন流水账 না হয়ে যায়, সে দিকে খেয়াল রাখতে হবে। ভাষার শৈলী অতিরিক্ত উৎকর্ষের দাবি করে না, তবে সংক্ষিপ্ত ও প্রাঞ্জল হওয়া চাই। গুরুত্বপূর্ণ স্থানে উপযুক্ত শব্দ ব্যবহার করা উচিত, অপ্রয়োজনীয় বাক্য বর্জন করতে হবে। লেখার সৌন্দর্য নয়, বরং প্রবাহমানতা ও সহজবোধ্যতাই মুখ্য। ভালো ভাষার শৈলী লেখকের জন্য দুই শতাংশ চুক্তির সম্ভাবনা বাড়ায় এবং পাঁচ শতাংশ ভাগের সম্ভাবনাও বৃদ্ধি করে।
তৃতীয়ত: উন্নয়ন ব্যবস্থা
একটি সুসংগঠিত জগতে নিজস্ব নিয়মাবলি থাকা আবশ্যক। যেমন修真 জগতে ভিত্তি স্থাপন থেকে উত্থান পর্যন্ত স্পষ্ট উন্নয়ন ব্যবস্থা থাকতে হয়। অনেক লেখক এখানেই হোঁচট খেয়েছেন। সম্পাদকরা এই ব্যবস্থাকে খুব গুরুত্ব দেন। অস্পষ্ট বা দুর্বল উন্নয়ন ব্যবস্থা লেখার সম্ভাবনা কমিয়ে দেয়। একটি উৎকৃষ্ট উন্নয়ন ব্যবস্থা পাঠকদের কাছে নতুনত্ব আনে, এমনকি এক নতুন ধারার সৃষ্টি করতে পারে। এখানে "নতুনত্ব" মানে শুধু নাম পাল্টানো নয়, বরং মৌলিক পরিবর্তন। ভালো উন্নয়ন ব্যবস্থা লেখকের চুক্তির সম্ভাবনা সাত শতাংশ এবং ভাগের সম্ভাবনা ষোল শতাংশ বাড়িয়ে দেয়।
চতুর্থত: নায়কের উন্নয়ন ব্যবস্থা
বেশ কিছু লেখক মনে করেন, নায়কের জন্য আলাদা উন্নয়ন ব্যবস্থা থাকা উচিত, যাতে কাহিনিতে বৈচিত্র্য আসে। উদাহরণস্বরূপ, অন্যরা修仙 চর্চা করছে, নায়ক却魔法 ব্যবহার করছে – এতে কাহিনিতে স্বাতন্ত্র্য দেখা যায়। তবে এটি যত্নের সঙ্গে পরিচালনা করতে হবে, নইলে বড় ধরনের ফাঁক থেকেই যাবে। ভালো নায়ক-কেন্দ্রিক উন্নয়ন ব্যবস্থা লেখকের জন্য দুই শতাংশ চুক্তি এবং ছয় শতাংশ ভাগের সম্ভাবনা বাড়ায়।
পঞ্চমত: কাহিনি
একজন বিখ্যাত লেখক বলেছিলেন, ভাষার সৌন্দর্যও উত্তেজনাপূর্ণ কাহিনির সামনে ম্লান হয়ে যায়। কাহিনি মনে হতে পারে সহজ, কিন্তু আসলে তা অত্যন্ত জটিল। এখানে রয়েছে伏笔, সময়ের চাপ, ও悬念। সময়ের চাপ মানে, নায়কের সামনে সবসময় এক প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বী থাকতে হবে, যে নায়ককে উন্নতির জন্য বাধ্য করে। এই প্রতিদ্বন্দ্বী হয়তো নায়কের চেয়ে অনেক শক্তিশালী, এবং অল্প সময়ের মধ্যে নায়ককে জয়ী হতে হলে দ্রুত উন্নতি করতে হবে, নইলে মৃত্যু অবধারিত। এতে পাঠকের মনেও টান সৃষ্টি হয়। ভালো কাহিনি লেখকের জন্য দশ শতাংশ চুক্তি এবং বিশ শতাংশ ভাগের সম্ভাবনা বাড়ায়।
এরপর আসে伏笔
伏笔 মানে ভবিষ্যতের জন্য ভিত্তি স্থাপন, যা悬念 থেকে আলাদা।伏笔 গভীরভাবে রাখা যায়, তবে পাঠককে যেন বোঝানো যায় এখানে কিছু রয়েছে, যা পরে ব্যবহৃত হবে।
悬念 পাঠকের মনে উত্তেজনা সৃষ্টি করে, নায়কের জীবন-মৃত্যু অনিশ্চিত রেখে, কিংবা হঠাৎ অধ্যায় শেষ করে বা নানা ধরনের বিপর্যয়ের মাধ্যমে পাঠককে পরবর্তী অধ্যায় পড়তে আগ্রহী করে তোলে। ভালো伏笔 ও悬念 লেখকের জন্য দশ শতাংশ চুক্তি এবং বিশ শতাংশ ভাগের সম্ভাবনা বাড়ায়।
এই তিনটি বিষয় একত্রে কাহিনিকে প্রাণবন্ত করে তোলে। নায়কের জীবন একঘেয়ে ও নির্বিঘ্ন হলে পাঠক আগ্রহ হারায়। এই তিনটি বিষয় যত্নের সঙ্গে উপস্থাপন করতে পারলে চুক্তি ও ভাগ কোনোটাই কঠিন নয়।
ষষ্ঠত: নায়কের চরিত্র
এখানে অনেকেই প্রশ্ন তুলতে পারেন, নায়কের চরিত্রের গুরুত্ব কী? লেখক লোলো নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলেছেন, একবার সম্পাদক স্পষ্টই জানিয়েছিলেন, নায়কের চরিত্র দুর্বল ও নিরুত্সাহী হলে পাঠক বিরক্ত হন। একজন পুরুষ নায়কের দৃঢ়তা অপরিহার্য। চরিত্রে স্থায়িত্ব থাকা চাই, নইলে পাঠক বিরক্ত হবে। নায়কের ব্যতিক্রমী বা অদ্ভুত চরিত্র থাকলেও, সেটি কাহিনির প্রয়োজনে এবং খুব যত্নের সঙ্গে ব্যবহার করা উচিত। পার্শ্বচরিত্রের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য। চরিত্রের গঠন যেমন, তার কাজকর্মও সেটির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ হতে হবে। ভালো চরিত্র লেখকের জন্য এক শতাংশ চুক্তি এবং পাঁচ শতাংশ ভাগের সম্ভাবনা বাড়ায়।
সপ্তমত: বর্ণনা
বর্ণনা এক ধরনের শিল্প। এখানে ভাষার সৌন্দর্যের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র-বর্ণনা এবং দৃশ্যান্তরের উপস্থাপন। চরিত্রের প্রবেশ দৃশ্য আকর্ষণীয় করে তুলতে, তার বৈশিষ্ট্য বা চেহারার মাধ্যমে ভিন্নতা আনা যায়। যেমন, এক শক্তিশালী পুরুষের নার্ভাস আচরণ, বা এক গৃহপরিচারিকার উচ্চকণ্ঠ, কিংবা এক সুদর্শন যোদ্ধার অদ্ভুত স্বভাব – এসব পাঠকের মনে গেঁথে যায়। দৃশ্যান্তর বা ফোকাস বদলানোর সময়ও সুন্দর বর্ণনা কাজে দেয়; কাঁচা প্রতীক বা চিহ্ন ব্যবহার না করে, পরিবেশ বা দৃশ্যের পরিবর্তনের মাধ্যমে পাঠককে নিয়ে যাওয়া উচিত। ভালো বর্ণনা লেখকের জন্য এক শতাংশ চুক্তি এবং তিন শতাংশ ভাগের সম্ভাবনা বাড়ায়।
সব মিলিয়ে, উপরোক্ত সাতটি বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করতে পারলে চুক্তি পাওয়ার সম্ভাবনা আটত্রিশ শতাংশ এবং ভাগের সম্ভাবনা ছিয়াশি শতাংশ পর্যন্ত বাড়ে। তবে কেউ কেউ প্রশ্ন তুলতে পারেন, কেন শতভাগ নয়? কারণ, এখানে "কমপক্ষে" বলা হয়েছে। সাতটি বিষয়ে পারদর্শিতা অর্জন করলে চুক্তি অনেক সহজ হয়ে যায়। তারপরও কিছু বিষয় থাকে যা বলে বোঝানো যায় না, যেমন: উপমাসংক্রান্ত অলংকার, সংলাপে অপ্রয়োজনীয় বাক্য, যতিচিহ্ন ও বানানের ভুল, অধ্যায় বা অনুচ্ছেদ বিভাজন, শুরুতে কয়েকশো শব্দের বর্ণনা, লেখকের নির্বাচিত শৈলী ইত্যাদি। এসব বিষয়ে লেখককেই নিজে থেকে শিখতে ও উপলব্ধি করতে হয়। আমি এগুলো লিখেছি শুধু যাতে নতুনরা অপ্রয়োজনীয় চক্রাকারে না ঘোরে।
এছাড়া, এগুলো শুধুমাত্র প্রথম দশ হাজার শব্দের জন্য প্রযোজ্য, পরবর্তী অংশেও এই সাতটি বিষয় অনুসরণ করলে উপন্যাস অবশ্যই সফল হবে। নতুন লেখকদের জন্য চুক্তি পাওয়া কঠিন হতে পারে, তবে উপরোক্ত নির্দেশনা মেনে চললে তা অসম্ভব নয়। যদি কেউ ধারাবাহিকভাবে লিখে শেষ করতে পারে, তাহলে এই আটত্রিশ শতাংশ সম্ভাবনা আরও বাড়তে পারে, এমনকি আটান্ন শতাংশের ওপরে পৌঁছাতে পারে। অনেক কৌশল আমার পক্ষেও অস্পষ্ট, বাকিটা আপনাদের নিজেদের অভিজ্ঞতা ও সাধনার ওপর নির্ভর করবে।