বিয়াল্লিশতম অধ্যায় উচ্ছ্বাসের ঢেউ
হয়তো ঠিকই বলেছিলেন হে শুয়ান, হয়ত তাদের দুজনেরই আগের জন্মে ছিল একজোড়া অদ্ভুত প্রেমশত্রু। তবে শুয়ান লু কী ওয়েনের প্রতি অগাধ মায়ায় বাঁধা ছিল, কিন্তু সে তা নিপুণভাবে গোপন করত বলে লু কী ওয়েন বিন্দুমাত্র বুঝতে পারেনি। বরং, লু কী ওয়েন নিজে শুয়ানকে কেবলমাত্র নামমাত্র চেনা একজন বলে মনে করত। সে কখনোই ভাবেনি, তার দেখা মাত্রই যে শুয়ান যেনো তাকে গিলে খেতে চায়, সেই শুয়ান তার প্রতি গোপনে প্রেমে পড়েছে।
লু কী ওয়েন হাসিমুখে হাসপাতালের বিছানার পাশে এসে শুয়ানকে বলল, “শুয়ান দিদি, দেখো তো আজ তোমার জন্য কী নিয়ে এসেছি।”
বলার সঙ্গে সঙ্গে লু কী ওয়েন থার্মোসের ঢাকনা খুলে দিল, সঙ্গে সঙ্গেই ঘ্রাণে ভরা সুগন্ধি ভেসে এল বাতাসে। সে সুগন্ধে শুয়ান মুখে আনন্দের ছাপ ফুটিয়ে বলল, ‘‘তুমি কি কচ্ছপের ঝোল এনেছো?’’
লু কী ওয়েন কৃত্রিম বিস্ময়ের ভান করে বলল, ‘‘আরে দিদি, তুমি জানলে কী করে!’’
শুয়ান তার শুভ্র আঙুল লু কী ওয়েনের কপালে আলতো ছুঁইয়ে বলল, ‘‘তোমায় তো আগেই বলেছি, আমার জন্য শরীরের জন্য এমন কিছু রান্না করতে হবে না। দেখো, আমি তো ইতি মধ্যেই মোটাসোটা হয়ে গেছি!’’
লু কী ওয়েন শুয়ানের সুঠাম, পরিপাটি শরীরের ওপর একবার দৃষ্টি বুলিয়ে হেসে বলল, ‘‘যদি এমন নিখুঁত শরীরও মোটা হয়, তাহলে দুনিয়ার নব্বই শতাংশ মেয়েই মোটা হয়ে যাবে।’’
শুয়ান হেসে উঠল, গরম ধোঁয়াভরা ঝোলের পাত্র হাতে নিয়ে অন্যমনস্কভাবে বলল, ‘‘কী ওয়েন, তোমার রান্নায় এমন স্বাদ তো সচরাচর আসে না।’’
লু কী ওয়েন নিরুত্তাপভাবে বলল, ‘‘এটা আমার রান্না নয়, এই রান্না সুযানের। কেমন করেছে বলো তো?’’
শুয়ানের হাতে ধরা সাদা চীনামাটির পাত্র কেঁপে উঠল, চোখে অদ্ভুত চাহনি, মুখে苍বর্ণ ছায়া, কাঁপা কণ্ঠে বলল, ‘‘সুয়ান?’’
লু কী ওয়েন শুয়ানের মুখ দেখে বুঝতে পারল সে বলে ফেলেছে। তবে ভাবল, যেহেতু এই কথা একদিন না একদিন বলতেই হত, তাই যখন মুখ ফসকে গেছে তখন স্পষ্টই বলা যাক।
তাই সে খুশির ভান করে বলল, ‘‘সুয়ান আমার নতুন বান্ধবী। এই ক’দিন তুমি যে ঝোল খাচ্ছো, সবই সে রান্না করেছে।’’
শুয়ানের মনে হঠাৎ একধরনের ঈর্ষা ও অজানা যন্ত্রণা উঁকি দিল। জানে না কেন, লু কী ওয়েনের মুখে নিজের বান্ধবীর কথা শোনার পর সারা মন জুড়ে অদ্ভুত এক অনুভূতি ছড়িয়ে পড়ল।
নিজেকে সামলে, মুখে হাসির আড়ালে শুয়ান বলল, ‘‘তাই? তাহলে সুস্থ হয়ে ওঠার পর সুযানকে একবার ঠিকঠাক ধন্যবাদ জানাতে হবে।’’
লু কী ওয়েন ঠিকই বুঝতে পারল, শুয়ানের গলার সুর কাঁপছে। যদিও সে আভাসে টের পায়, শুয়ানের মনে তার প্রতি যে দুর্বলতা রয়েছে তা প্রেমের চেয়ে অনেকটা নির্ভরতার মতো, কারণ সে শুয়ানকে জীবনের সবচাইতে ভঙ্গুর সময়ে সাহায্য করেছিল, তাই শুয়ানের মনে এক অদ্ভুত, অজানা মায়া গেঁথে গেছে।
শুয়ান মাথা নিচু করে বসে রইল, হাতে থাকা ঝোলও খেতে ভুলে গেল। লু কী ওয়েন দীর্ঘশ্বাস ফেলে তাকিয়ে রইল।
হাসপাতাল থেকে বেরোবার সময় সন্ধ্যা নেমে এসেছিল। সে যখন ট্যাক্সিতে উঠে বসেছে, তখনই মোবাইল বাজল।
ওপারে সুযানের কোমল কণ্ঠ, ‘‘কী ওয়েন, তুমি কোথায়?’’
লু কী ওয়েন মুখে হাসি ফুটিয়ে বলল, ‘‘ফিরছি, কিছু দরকার?’’
সুয়ান বলল, ‘‘আগামীকাল ছুটির দিন।’’
লু কী ওয়েন প্রথমে একটু থমকে গিয়ে তারপর স্মরণ করল, মুখে খুশির আভা ফুটে উঠল, ‘‘তাই নাকি! তুমি না বললে তো ভুলেই যেতাম।’’
সুয়ান আদুরে সুরে বলল, ‘‘চিন্তা কোরো না, খাওয়া-দাওয়া, ঘুম সব ভুলে গেলেও এটুকু ভুলব না। কাল তোমার স্কুলে আসব।’’
সুয়ান সন্তুষ্ট গলায় সাড়া দিল।
মোবাইল রেখে মুখে প্রশান্তির হাসি ফুটিয়ে লু কী ওয়েন জানাল, সে যে প্রেমে মগ্ন।
পরদিন ভোরেই লু কী ওয়েন গিয়ে হাজির হল সুয়ানের ঘরের দরজায়, একটুও কুণ্ঠিত নয় শিক্ষকদের অবাক দৃষ্টির সামনে।
সুয়ান এলোমেলো চুলে দরজা খুলে দেখে লু কী ওয়েন দাঁড়িয়ে, মুখ লাজুক হয়ে গেল, ‘‘এত সকালে এলে কেন?’’
লু কী ওয়েন ঘরে ঢুকে, সুয়ানের গলায় মুখ গুঁজে গভীর শ্বাস নিয়ে হাসল, ‘‘শ্বশুর-শাশুড়ির সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছি, দেরি করলে চলবে?’’
সুয়ান মুখ রাঙা করে দরজা বন্ধ করে বলল, ‘‘উঁহু, আগে আমার বাবা-মায়ের মন জয় করো, তারপর দেখা যাবে। তুমি বসো, আমি স্নান সেরে আসছি।’’
লু কী ওয়েন বসার ঘরে বসে টিভি চালিয়ে বলল, ‘‘চাও কি আমার সাহায্য?’’
জবাবে দরজা বন্ধ হওয়ার শব্দ, তারপর হালকা শব্দে শুনল, সুয়ান ভেতর থেকে বাথরুমের দরজা বন্ধ করে দিল।
লু কী ওয়েন এক চিলতে হাসি দিয়ে কিছু মনে করে দৌড়ে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল। আবার ফিরে এল, হাতে সাদামাটা জলখাবার।
বাথরুমের দরজা খোলা, ভেতর থেকে ঘরের শব্দ ভেসে আসে। লু কী ওয়েন মনোযোগ দিয়ে আস্তে পায়ে শোবার ঘরের দিকে এগোল।
শোবার ঘরের দরজা খোলা, লু কী ওয়েন হালকা ঠেলা দিয়ে দরজা খুলে দিল।
তার চোখের সামনে ফুটে উঠল এক অপূর্ব শুভ্র শরীর। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে গা মুছছিল সুয়ান, হঠাৎ লু কী ওয়েন ঢুকে পড়বে ভাবেনি, হতবাক হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। নিজেকে সামলে তাড়াতাড়ি তোয়ালে দিয়ে শরীর ঢাকল, মুখ লাল করে বলল, ‘‘তুমি... তুমি এভাবে ঢুকলে কেন?’’
লু কী ওয়েনের দৃষ্টি বারবার সুয়ানের নিখুঁত শরীরের ওপর ঘুরে বেড়াল; গোলাপি কাঁধ, মসৃণ বাহু, নবপল্লবের মতো পা।
মুখে এক আশ্চর্য হাসি, চোখ চলে গেল বিছানার দিকে, সেখানে কালো স্যুট পরিপাটি করে রাখা।
মনে হল কিছু, অগোছালো বিছানার দিকে এগিয়ে গেল, নরম বিছানায় বসে আয়নায় দেখল সুয়ানের মসৃণ পিঠ, উঁচু নিতম্ব, গভীর শিলাখাত—সব স্পষ্ট। লু কী ওয়েনের মনে কামনার আগুন জ্বলে উঠল।
লু কী ওয়েনের দৃষ্টি দেখে সুয়ানও আয়নায় নিজেকে দেখে নিল, বুঝল তার অর্ধেক শরীর অনাবৃত। সে কেঁপে উঠল, আধশোয়া হয়ে মাটিতে বসে পড়ল, পা গুটিয়ে, মুখ লাল করে বলল, ‘‘তুমি... তুমি একটু বাইরে যাবে? আমি পোশাক পাল্টাবো।’’
লু কী ওয়েন হেসে বলল, ‘‘তোমাকে তো আগেও দেখেছি, লজ্জা কিসের? আর তুমি আমার জন্য যে জামাকাপড় এনেছো, দেখি তো ঠিকঠাক হয় কিনা।’’
বলেই সে সুয়ানের প্রতিক্রিয়া উপেক্ষা করে জামা খুলতে শুরু করল।
মে মাসের গরমে লু কী ওয়েন শুধু অন্তর্বাস পরে রইল, সুঠাম দেহ নানা আবেগে ফুটে উঠল সুয়ানের চোখে।
এক ঝলক দেখেই সুয়ান সংকোচে মুখ ঘুরিয়ে নিল, কিন্তু মুখ ফেরাতেই তার সম্পূর্ণ নগ্ন শরীর লু কী ওয়েনের সামনে উন্মুক্ত হয়ে গেল।
সকালবেলা পুরুষের রক্ত সবচেয়ে উষ্ণ, বিশেষত লু কী ওয়েনের মতো যুবকের কাছে এই দৃশ্য ঠেকানো কঠিন।
সুয়ান তার কোমরবেষ্টিত কালো চুল, উঁচু নিতম্ব, গাঢ় চোখা জঙ্ঘা লু কী ওয়েনের সামনে অনাবৃত।
কম্পিউটারে প্রবেশ: